
ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ‘এল নিনো’! চরম আবহাওয়ার আশঙ্কায় কাঁপছে ভারত‑সহ গোটা বিশ্ব
প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ গঠনের সম্ভাবনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রীষ্মের বৃষ্টিপাতের প্যাটার্নে বিশাল পরিবর্তন আসবে, যা ভারতসহ বিশ্বজনীনভাবে কৃষি ও জলসম্পদে বিপুল প্রভাব ফেলবে।
দু’বেলা গরমের সাঁজে, বৈশ্বিক বায়ুমণ্ডলে এক ভয়ানক পরিবর্তন চিহ্নিত হয়েছে—প্রশান্ত মহাসাগরে শীঘ্রই শক্তিশালী ‘এল নিনো’ গঠন হবে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্কবাণী দিচ্ছেন। নাসা ও ভারতীয় বায়ু গবেষণা বোর্ডের সাময়িক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা দ্রুতই এল নিনোর মূল সূচক পূরণ করবে।
এল নিনো প্রভাবিত হলে গ্রীষ্মের বৃষ্টিপাতের প্যাটার্নে বিশাল পরিবর্তন দেখা যাবে। আমাদের দেশের পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর প্রদেশে শস্যের চাষে ভয়ানক ক্ষতি, দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি, আর উত্তর-প্রাচ্যের কিছু অংশে অতি গরমের শিকল দেখা দিতে পারে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরাই এখন দুশ্চিন্তায় বেঁধে আছেন, কারণ বৃষ্টির অবনতি সরাসরি ধান ও গমের উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে।
বিশ্বের অন্যান্য অংশেও এই ঝড়ের ছায়া পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় তীব্র শুষ্কতা, তাপপ্রবাহ ও জলের ঘাটতির সম্ভাবনা বাড়ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায়, মানব সমাজের মৌলিক চাহিদা—খাদ্য, জলস্রোত ও স্বাস্থ্য—সবই ঝুঁকিতে পড়বে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়কে স্বল্পমেয়াদে বীজ, সেচ সুবিধা ও আর্থিক সহায়তা বাড়াতে হবে, আর জলবায়ু পরিবর্তন কমাতে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বনসংরক্ষণে জোর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য।
উপসংহারে বলা যায়, ‘এল নিনো’ আমাদের সকলেরই ভাগ্যকে প্রভাবিত করবে; তাই সচেতনতা, প্রস্তুতি ও সমন্বিত নীতি এই চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি কমাতে মূল চাবিকাঠি হবে।




