
সর্ষে নয়, মুচমুচে পাবদা ফ্রাই বানান—বর্ষার বিকেলে জমবে খাবারের আসর
অরিত্রী চাঁদ মুচমুচে পাবদা ফ্রাইয়ের রেসিপি শেয়ার করেছেন, যা বর্ষার বিকেলে গৃহস্থালি খাবারের নতুন রঙ যোগ করবে। সর্ষে পাবদা ছেড়ে ফ্রাই দিয়ে মশলা ও টেক্সচারকে একত্রিত করা হয়েছে।
কলকাতার অরিত্রী চাঁদের গৃহস্থালি কোণায় এক নতুন রান্নার ধারা শুরু হয়েছে। শীতল বর্ষার বিকেলে ঝিকিমিকি মশলা ও হালকা মধুর গন্ধে ভাসা হাওয়া, পাবদা মাছের মচমচে ফ্রাইয়ের স্বাদকে আরও তীব্র করে তুলছে। প্রচলিত সর্ষে পাবদা বা টমেটোর ঝোলের বদলে এখন মসলা মিশ্রণ, রসুন, আদা ও তেজপাতা দিয়ে গড়িয়ে তোলা ফ্রাই, তেল ভেজিয়ে সোনালি রঙে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই রেসিপিটি প্রথমবারের মতো অরিত্রী চাঁদই তার স্বাদ গৃহে গৃহে ছড়িয়ে দিয়েছেন, যা দ্রুতই সবার মুখে কথার লবণ হয়ে উঠেছে।
পাবদা মাছের মাংসের স্বাদ বজায় রাখতে প্রথমে ছোট ছোট টুকরা করে কেটে, লবণ, হলুদ, লেবুর রস মিশিয়ে আধা ঘন্টার মতো হালকা করে রাখেন। এরপর ময়দা, চালের গুঁড়া, নারিকেল কুঁড়া এবং সামান্য বাসমতি চালের দানা মিশিয়ে গাড়া ব্যাটার তৈরি করা হয়। তেলে গরম হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে, এক এক করে মাছের টুকরা ডুবিয়ে গরম তেলে ভাজা হয়। তেল থেকে বেরিয়ে আসা সঙ্গে সঙ্গে মাছের টুকরা মচমচে, রসালো এবং হালকা মশলাদার স্বাদে ভরে ওঠে।
বর্ষার দিনে, যখন রাস্তায় জলঝড়ের বৃষ্টি থেমে যায়, তখনই এই মুচমুচে পাবদা ফ্রাইয়ের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি হয়। গরম চায়ের সঙ্গে অথবা তেজপাতা, লেবুর রসের সঙ্গে ডুবিয়ে খেলে, তাপের গলা গলিয়ে দেয়। পরিবারিক সান্ধ্য ভোজনের টেবিলে এই ফ্রাইকে কেন্দ্রবিন্দু করে রাখলে, সবার মুখে হাসি ফোটে, আর মশলাদার গন্ধে বাড়ি ভরে ওঠে।
অরিত্রী চাঁদ বলেন, “বর্ষা মৌসুমে তেল ও মশলা বেশি ব্যবহার করা হয়, তাই মুচমুচে ফ্রাই আমাদের স্বাদকে সমৃদ্ধ করে। এছাড়া, পাবদা মাছের প্রোটিন ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ, যা স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও উপকারী।” তিনি যুক্ত করেন, এই রেসিপি সহজে বাড়ির সবাইকে শিখিয়ে দিতে পারেন, তাই ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিবারে এই খাবারটি চালু হবে।
সর্বোপরি, সর্ষে পাবদা থেকে মুচমুচে ফ্রাইয়ের রূপান্তরটি শুধু স্বাদে নয়, বর্ষার রঙিন পরিবেশে খাবারের আনন্দকে বাড়িয়ে দেয়। এই নতুন রেসিপি, যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়, তবে কলকাতার গৃহস্থালি রান্না সংস্কৃতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, এবং মশলাদার খাবারের প্রেমিকদের হৃদয়ে এক নতুন স্থান দখল করবে।




