
খালি পায়ে ইতিহাস — ১১৫ বছর পরেও অমর মোহনবাগান দিবসের গৌরব
২৯ জুলাই মোহনবাগান আইএফএ শিল্ড জয়ের ১১৫ তম বার্ষিকী উদযাপন করা হয়, যেখানে পুরনো গৌরবের স্মরণ এবং তরুণ প্রতিভার স্বীকৃতি একসাথে করা হচ্ছে।
২৯ জুলাই, ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন হিসেবে চিহ্নিত। ১৯১১ সালের এই দিনেই মোহনবাগান আইএফএ শিল্ড জিতেছিল, যখন একদল বুনো গাছের মতোই সাহসিক ছেলেমেয়ের দল খালি পায়ে মাঠে নামিয়ে অশান্ত ইংরেজি দলকে পরাজিত করেছিল। সেই বিজয় শুধু ফুটবলেই নয়, জাতীয় আত্মবিশ্বাসের সঞ্চারক হিসেবে কাজ করে, যা আজও ভক্তদের হৃদয়ে গেঁথে আছে।
মোহনবাগান দিবসের স্মরণে কলকাতা জুড়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। পুরনো ভক্ত সংগ্রহশালার ছবি প্রদর্শনী, প্রাক্তন খেলোয়াড়দের বক্তৃতা এবং নতুন তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ শিবিরে শহরের গলি-গলিতে গুঞ্জন শোনা যায়। আজকের এই উদযাপনেও ঐ ঐতিহাসিক মুহূর্তের চিত্র ও কণ্ঠস্বর পুনরায় জীবিত হয়, যা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।
এই বছর ১১৫ তম বার্ষিকী উপলক্ষে মোহনবাগান ক্লাবের প্রাতিষ্ঠানিক কমিটি বিশেষ পরিকল্পনা করেছে। পুরনো গর্বের স্মরণে ক্লাবের প্রাক্তন কেপ্টেনদের সম্মাননা প্রদান করা হবে, পাশাপাশি তরুণ প্রতিভার স্বীকৃতি ও স্কলারশিপের ঘোষণা দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্লাবের ঐতিহ্য বজায় রেখে ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্য স্পষ্ট হয়েছে।
মহান গৌরবের এই দিনটি কেবল একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান নয়; এটি শহরের সংস্কৃতিতে গাঁথা এক সেতু। ঢাকার গলি থেকে গলিতে ছড়িয়ে থাকা এই ঐতিহ্য গৌরবের গন্ধ, কলকাতার নাগরিকদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ চেতনা জাগায়। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে শহরের পুরনো ও নতুন সব গলি-গলি ফুটবল প্রেমিক একসাথে দাঁড়িয়ে গর্বের স্বরে গাইছে “মোহনবাগান, তোমার নামই গর্ব।”
শেষে, মোহনবাগান দিবসের এই ১১৫ তম বার্ষিকী কেবল অতীতের স্মরণ নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার প্রেরণা। ফুটবল মাঠে এখন যে তরুণরা পা রাখছে, তারা ঐ গৌরবময় ইতিহাসের ধারাবাহিকতা, এবং এই ঐতিহ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তাদের উপর।




