
নাসার স্বিফট টেলিস্কোপের মিশন‑সুরক্ষার জন্য ৩ কোটি টাকার দুঃসাহসিক অভিযান
নাসা স্বিফট টেলিস্কোপের কক্ষপথ নিম্নগামী হওয়ায় ৩ কোটি টাকায় জরুরি মিশন চালু করেছে। রকেট ইঞ্জিনের সাহায্যে কক্ষপথ পুনঃসামঞ্জস্য করে টেলিস্কোপকে পুনঃপ্রবেশের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা হবে।
নাসা গত ২২ বছর ধরে মহাকাশে কাজ করে আসা স্বিফট অবজারভেটরি (Swift Observatory) এখন এক অনন্য ঝুঁকির মুখে। সূর্যের তীব্র সৌরঝড়ের প্রভাবের ফলে টেলিস্কোপের কক্ষপথ ধীরে ধীরে নিচে নামছে এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যদি অবিলম্বে পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে স্বিফটের ধ্বংসাত্মক পুনঃপ্রবেশের সম্ভাবনা বাড়বে, যা মহাকাশ গবেষণার জন্য একটি বড় ক্ষতি হতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাসা তাত্ক্ষণিকভাবে ৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চালু করেছে। তহবিলটি ব্যবহার করে স্বিফটের কক্ষপথকে পুনঃসামঞ্জস্য করা হবে, যাতে টেলিস্কোপের উচ্চতা বাড়ানো যায় এবং পুনঃপ্রবেশের ঝুঁকি হ্রাস পায়। এই কর্মসূচি সম্পন্ন করতে রকেট ইঞ্জিনের ছোট পরিসরে জ্বালানি যোগ করা, অথবা মহাকাশে অতিরিক্ত গতি প্রদান করা হবে, যা স্বিফটকে নিরাপদে তার নির্ধারিত কক্ষপথে ফিরিয়ে আনবে।
স্বিফট অবজারভের মূল কাজ হল গামা‑রে বিস্ফোরণ ও অন্যান্য উচ্চ শক্তির মহাজাগতিক ঘটনার তত্ত্ব অনুসন্ধান করা। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের সবচেয়ে চরম পরিবেশের গঠন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে আসছেন। তাই টেলিস্কোপের হারিয়ে যাওয়া মানে হবে এই ধরণের গবেষণার অগ্রগতি থেমে যাওয়া, যা আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্প্রদায়ে বড় ধাক্কা হবে।
নাসা এই পদক্ষেপের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি এড়াতে কক্ষপথ পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে। আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে, মহাকাশে চলমান যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিচ্ছিন্ন মনিটরিং চালু করা হবে। বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করছেন, এই দ্রুত এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ স্বিফটকে আবার নিরাপদে কাজ চালিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
উপসংহারে বলা যায়, নাসার এই ৩ কোটি টাকার দুঃসাহসিক অভিযান কেবল স্বিফট টেলিস্কোপকে রক্ষা করবে না, বরং মহাকাশ গবেষণার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সময়ের সাথে সাথে সূর্যের ক্রিয়াকলাপ বাড়তে পারে, তবে প্রোএক্টিভ পদক্ষেপ নিলে এমন ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এটাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সত্যিকারের শক্তি।




