তসলিমা নাসরিনের উন্মাদ আহ্বান – দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু হোক
রাজনীতি3 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

তসলিমা নাসরিনের উন্মাদ আহ্বান – দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু হোক

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

তসলিমা নাসরিন দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে ইউনিফর্ম সিভিল কোডের আহ্বান জানিয়ে নারীর অধিকারকে সমান করার দাবি তোলেন। তার এই পদক্ষেপ ধর্ম‑সংস্কৃতির সীমা অতিক্রম করে আইন‑সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন আজ আবারও জনমুখে সমুদ্রসীমা অতিক্রম করে উচ্চস্বরে দাবি দিলেন যে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশেই একত্রে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) চালু করা উচিত। তিনি বলছেন, “যদি নারীর অধিকারকে সত্যিকারের রক্ষা করা যায়, তবে একটি একক আইনই দরকার, যা সকল ধর্ম‑সংস্কৃতির সীমা অতিক্রম করবে।” তসলিমা এই কথা কলকাতা শহরের এক প্রকাশনা ঘরে দিলেন, যেখানে সাংবাদিক ও বৌদ্ধিক দলে উপস্থিত ছিলেন।

তসলিমা নাসরিনের মতে, বর্তমান আইনগুলো ধর্ম‑ভিত্তিক ভেদাভেদকে বাড়িয়ে দেয় এবং নারীর স্বতন্ত্র অধিকারকে হ্রাস করে। তিনি যুক্তি দিচ্ছেন, “একই কোডে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হলে, বৈবাহিক শোষণ, সম্পত্তি হরণ ইত্যাদি সমস্যার সমাধান হবে।” এধরনের সমন্বিত আইন গৃহীত হলে, নারীসশক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং সমাজে সমতা স্থাপন হবে।

অনেক ধর্মীয় গোষ্ঠী ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক দলে তসলিমার এই আহ্বানকে ‘বৈরাগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করে প্রত্যাখ্যানের সুর তুলেছে। তবে বামপন্থী সংস্থা ও মানবাধিকার সমিতি তসলিমার পাশে দাঁড়িয়েছে, কারণ তারা একমত যে একটি সাধারণ আইন সমাজকে আধুনিকতার পথে এগিয়ে নিতে পারে। এই বিতর্কে উভয় দিকই শক্তিশালী যুক্তি পেশ করছে, যা দেশে নীতি‑নির্ধারকদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

তসলিমা নাসরিনের এই নতুন দাবি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সমসাময়িক নারীর অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান ইত্যাদি দেশে ইতিমধ্যে সমানত্ব‑ভিত্তিক আইন চালু করার আলোচনা চলছে। তসলিমার এই প্রচারাভিযানকে যদি সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়, তবে উক্ত দেশগুলোতে আইন‑সংস্কার দ্রুততর হতে পারে।

উপসংহারে বলা যায়, তসলিমা নাসরিনের ইউনিফর্ম সিভিল কোডের আহ্বান একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। যদিও তাৎক্ষণিক সমর্থন পাওয়া কঠিন, তবু এই আলোচনার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সমতামূলক আইনি কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যতে যদি এই ধরণের সমন্বিত আইন বাস্তবায়িত হয়, তবে সমগ্র অঞ্চলে মানবাধিকার উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX