
সেবাশ্রয় প্রকল্পে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর তীব্র প্রশ্ন‑বাতাস, রোগীদের ওষুধের সঙ্গে গণ্ডগোলের অভিযোগ বাড়ছে
সেবাশ্রয় প্রকল্পে রোগীর ওষুধের সঙ্গে গণ্ডগোলের অভিযোগ বাড়ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল স্বচ্ছতা বাড়াতে তদারকি ব্যবস্থা চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে বিশ্লেষকরা দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের ওপর নতুন এক ঝড় উঠেছে। সাপ্তাহিক একাধিক সংবাদদাতা এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা জানাচ্ছেন, রোগীরা যখন চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধের নথি নিয়ে সেবাশ্রয়ের শাখায় গিয়ে সেবা গ্রহণ করেন, তখন প্রায়শই ভিন্ন ধরণের ওষুধই পেয়ে যান। এ ধরনের পার্থক্য রোগীর তীব্র অসুস্থতার সময়ে গুরত্বপূর্ণ সমস্যার সৃষ্টি করছে এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রকল্পের সমর্থকরা দাবি করেন, সেবাশ্রয় মূলত দরিদ্র রোগীদের সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ সরবরাহের জন্য চালু করা হয়েছে, তবে বাস্তবে শাখা-শাখায় পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় কিছু কর্মী নিজস্ব স্বার্থে ওষুধ বদলিয়ে দিচ্ছেন। এই অভিযোগের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র বলছেন, “প্রতিটি শাখায় রেকর্ডিং সিস্টেম চালু করা হবে, এবং যে কোনো অনিয়মের জন্য কঠোর শাস্তি দেবো”।
এই ঘটনার পর, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, রোগীর নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ওষুধের সরবরাহে স্বচ্ছতা এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম অপরিহার্য। তারা সরকারকে অনুরোধ করছেন, সেবাশ্রয় প্রকল্পে স্বতন্ত্র তদারকি কমিটি গঠন করে, নিয়মিত অডিট চালু করতে এবং রোগীর অভিযোগের দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলও এখন বলছে, “প্রকল্পের স্বচ্ছতা বাড়াতে জরুরি সমীক্ষা শুরু করা হয়েছে, এবং যেসব শাখা থেকে অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে সেগুলো বন্ধ করা হবে।” তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, একবার গড়ে ওঠা অবিশ্বাস দ্রুত সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—দরিদ্রের সেবা—অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, সেবাশ্রয় প্রকল্পের গণ্ডগোলের অভিযোগগুলো শুধুমাত্র একক ঘটনা নয়, বরং প্রকল্পের কাঠামো, তদারকি ও বাস্তবায়নের পদ্ধতিতে গভীর পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন নির্দেশ করে। যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে রোগীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে এবং রাজনৈতিক বিরোধও তীব্র হবে, তাই দ্রুত ও কার্যকর সমাধানই এখন প্রয়োজনীয়।




