
বাজেট পেশের আগে বিধানসভার গৃহে মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর পুজো‑আরতি
বাজেট পেশের আগে বিধানসভা ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও অর্থমন্ত্রীর পুজো‑আরতি রাজনীতির সঙ্গে ধর্মীয় রীতি মেশানোর নতুন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দল ও বিশ্লেষকরা এই প্রচেষ্টাকে সমালোচনা করলেও, সমর্থকরা এটিকে সাংস্কৃতিক সংহতির প্রতীক হিসেবে গণ্য করছেন।
বাজেট উপস্থাপনের দিন নিকটে আসতে থাকায়, রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় দু’জন নীতিকর্মী বিধানসভা ভবনের অন্দরভাগে এক অনন্য পুজো‑আরতি করে নিজেদের সম্মানসূচক সূচনা করেছেন। বিধানসভার গৃহে এইবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও অর্থমন্ত্রী একসাথে ঠাকুরের আসন নেয়ার পর সূচনা করে, যা রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রথমবারের মতো ঘটেছে।
নতুন সরকারের শাসনকাল শুরু হওয়ার পর থেকে, ধর্মীয় ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা বাড়ছে। বিধানসভার গৃহে পুজো‑আরতি করার মাধ্যমে দু’জন নেতারা কেবল ধর্মীয় সান্নিধ্যই নয়, নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে ধর্মীয় স্বীকৃতির সঙ্গে গাঁথা করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। পবিত্র জলে স্নান, গন্ধদীপ জ্বালানো এবং রবিশঙ্করকে অর্ঘ্য অর্পণের পর, উভয় নেতাই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের শেষে আর্থিক নীতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই পুজো‑আরতিতে রাজ্যের প্রখ্যাত পুরোহিতদের সাথে মিলিত হয়ে একাধিক গৃহীত রীতি পালন করা হয়েছে। প্রতিদিনের নিয়মিত পুজোতে মিষ্টি, ফল ও নানারকম আচার-অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বিধানসভার গৃহের শোভা বাড়িয়ে তুলেছে। তবে এইধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে রাষ্ট্রের পবিত্র স্থান হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে কিছু বিশ্লেষক ও বিরোধী দল সমালোচনা প্রকাশ করেছেন।
বিপক্ষের নেতৃত্বের মতে, ধর্মীয় অনুষঙ্গের সঙ্গে রাজনীতি মিশ্রিত হওয়া বিচ্ছিন্নতা নীতি লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করে এবং তা নাগরিকদের মধ্যে বিভাজনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, সমর্থকরা দাবি করেন যে, এ ধরনের অনুষ্ঠান রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সমর্থন করে এবং জনমানসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাজেট পেশের ঠিক আগে এই পুজো‑আরতি রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সময়ের সাথে দেখা যাবে, এই ধর্মীয় রীতি রাজ্যের নীতি নির্ধারণে কোনো বাস্তব সহায়তা দেবে কিনা, নাকি কেবল রাজনৈতিক দৃশ্যমানতা বাড়ানোর জন্য একটি পর্দা হয়ে থাকবে। যাই হোক, বিধানসভার গৃহে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এখনকার রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে এক স্থায়ী চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।




