
ভারতের গর্জন সাগর জুড়ে গুনবে—দ্বিতীয় দেশীয় বিমানবাহী রণতরী IAC‑২ নির্মাণে কাজ চলছে
ড্রোনের নতুন হুমকির মোকাবেলায় ভারত তার দ্বিতীয় দেশীয় রণতরী IAC‑২ গড়ে তুলছে। আধুনিক রাডার ও স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ ব্যবস্থা যুক্ত এই নৌযানটি সমুদ্রসৈন্যে স্বশাসন ক্ষমতা বাড়াবে।
শক্তিশালী সমুদ্রসৈন্য গঠনকে ত্বরান্বিত করতে ভারতের শপথবদ্ধতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। ইরান‑যুক্তরাষ্ট্রের নিভৃত দ্বন্দ্বে ড্রোনের তীব্র আক্রমণকে মোকাবেলা করতে গৃহস্থালি প্রযুক্তিতে তৈরি দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী, IAC‑২, নির্মাণের কাজ দ্রুত অগ্রসর। এই নৌযানটি Vikrant‑Class Carrier প্রকল্পের ধারাবাহিকতা হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভারত সমুদ্রের ওপর স্বনির্ভর ক্ষমতা অর্জন করবে।
প্রকল্পটি দিল্লি‑ভিত্তিক ডিফেন্স রিসার্চ অর্গানাইজেশন (DRDO) ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ডিফেন্স (ICD) সমন্বয়ে গড়ে উঠছে। ইঞ্জিনিয়ারিং দলটি আধুনিক রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা ও দীর্ঘ দূরত্বের ড্রোন লঞ্চ সিস্টেম সংযোজনের ওপর কাজ করছে। বিশেষ করে, শত্রু ড্রোনের দ্রুত সনাক্তকরণ ও ধ্বংসের জন্য উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম যুক্ত করা হবে।
বিমানবাহী রণতরীর ডেকে থাকবে ১০০ টিরও বেশি মাল্টি‑রোল ফাইটার ও অব্যবহৃত ড্রোনের জন্য উড্ডয়ন ক্ষেত্র। এর ফলে ভারত সমুদ্রের ওপর স্বায়ত্তশাসিত এয়ারকভারেজ গড়ে তুলতে পারবে, যা পূর্বের IAC‑১‑এর তুলনায় অধিক লোড ও উন্নত সুরক্ষা প্রদান করবে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে এই প্রকল্পটি দেশের রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। বিদেশি নৌবাহিনীর কাছেও IAC‑২ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশীয় রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে।
সারসংক্ষেপে, IAC‑২ নির্মাণের মাধ্যমে ভারত সমুদ্রের ওপর স্বশাসন শক্তি অর্জনের লক্ষ্যে এক নতুন যুগের সূচনা করছে। ড্রোনের চ্যালেঞ্জকে পরাস্ত করে সমুদ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রবাণিজ্যিক রুটে ভারসাম্য রক্ষা করা এই রণতরীর প্রধান উদ্দেশ্য।




