
তীব্র বিদ্যুৎ সঙ্কটে নাজেহাল বাংলাদেশ, কেন এই পরিস্থিতি?
গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি ও গরমের তাপে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট চরমে পৌঁছেছে। লোডশেডিংয়ের ফলে শহর-গ্রাম দু'ই স্থানে জীবনযাত্রা ব্যাহত, দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির ফলে দেশের বিদ্যুৎ জাল চরম লোডশেডিং মুখে পড়েছে। গরমের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে। শহরের বড় বড় অফিস, হাসপাতাল ও স্কুলে গৃহস্থালীর মতোই আলো নিভে যায়।
শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়মিততা বাড়ে চলমান গ্যাস সংকটের সঙ্গে। গ্যাস টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ ও শিপিং দেরি হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সংস্থা লোডশেডিং বাড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে সীমিত জ্বালানি সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করা যায়। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে, আর শ্রমিকদের বেতনও প্রভাবিত হচ্ছে।
বৈশ্বিক তেল দামের উত্থান ও স্থানীয় গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে শক্তি খরচে অতিরিক্ত চাপ বাড়ছে। সরকার নতুন গ্রাহক সংযোজনের পরিকল্পনা থামিয়ে গ্যাসের দামের নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিচ্ছে, তবে তা তৎক্ষণাত্ ফল দিচ্ছে না। আরেকদিকে, বিদ্যুৎ চূড়ান্ত গ্রাহকদের জন্য জরুরি রেডি-টু-সার্ভিস ট্যাপার স্থাপন করা হচ্ছে, তবে তা সাময়িক সমাধানই।
সর্বোপরি, গ্যাস সংকটের মূল কারণ হল অবকাঠামোর অপর্যাপ্ততা এবং বহিরাগত বাজারের অস্থিরতা। বিদ্যুৎ ঘাটতি দূর করতে দ্রুত গ্যাস সংগ্রহ, নवीকরণযোগ্য জ্বালানি বিনিয়োগ এবং লোডশেডিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। না হলে গরমের মরসুমে দেশের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিণতি আরও বাড়তে পারে।




