
ঐতিহ্যে বদল! লালকেল্লায় জাতীয় সঙ্গীতের আগেই ‘বন্দে মাতরম্’
৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা পারেডে ‘বন্দে মাতরম্’কে জাতীয় সঙ্গীতের আগে গাওয়া হবে, যা ঐতিহ্যের প্রথম বড় বদল। এই পদক্ষেপের পেছনে সংস্কৃতি-মহিমা বাড়ানোর উদ্দেশ্য লক্ষ্য করা হয়েছে।
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের শোভা গাঁথতে লালকেল্লা পারেডে এক অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘোষণা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে লালকেল্লা রেলগাড়িতে রেডিয়োতে গানের তালিকায় প্রথমে ‘বন্দে মাতরম্’ বাজানো হবে, আর তার পরেই জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ গাওয়া হবে। এই পরিবর্তনটি ঐতিহ্যবাহী ক্রমের প্রথম বড় বৈপরীত্য, কারণ আগে সব সময় জাতীয় সঙ্গীতের পরেই ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া হতো।
প্রসঙ্গত, লালকেল্লা পারেডের আয়োজনের দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রেনসফার কমিটি এই সিদ্ধান্তকে “ইতিহাসের গৌরবময় মুহূর্ত” বলে স্বীকার করেছে। তারা ব্যাখ্যা করে যে, ‘বন্দে মাতরম্’ দেশের স্বাভিমান ও স্বাধীনতার সুরকে আরো উজ্জ্বল করে তুলবে, ফলে তা প্রথমে শোনালে নাগরিকদের মধ্যে গর্বের অনুভূতি তীব্র হবে। এছাড়া, এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কিছু ইতিহাসবিদ ও সঙ্গীতজ্ঞ এই পরিবর্তনকে সমালোচনা করে বলেন, “জাতীয় সঙ্গীতের আগে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া হলে প্রথাগত মান্যতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।” তবু, সরকার জানিয়েছে যে, এই পরিবর্তনটি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া কেবলমাত্র সাংস্কৃতিক সমাবেশের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য নেওয়া হয়েছে। তাই, লালকেল্লা পারেডের দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য নতুন রীতি একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হবে।
সর্বশেষে, লালকেল্লা রেলগাড়ি ১৫ আগস্টের রাত্রে দিল্লির হরিণভূমি থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন গলিতে গিয়ে, ‘বন্দে মাতরম্’কে প্রথম সুরে গাইবে, এবং তারপরই জাতীয় সঙ্গীতের গৌরবময় সুরে সমাপ্ত হবে। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনটি দেশের একতা ও স্বাধীনতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হবে।




