
অসম-অরুণাচল সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাত, গুলিচালনায় আহত ১৮ গ্রামবাসী, চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
অসম ও অরুণাচল প্রদেশের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় গুলিচালনায় আহত হলেন ১৮ জন গ্রামবাসী। চারজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
অসম ও অরুণাচল প্রদেশের দীর্ঘদিনের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় ফের চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দুই রাজ্যের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে চলা টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার রণক্ষেত্রে পরিণত হলো সীমান্তবর্তী এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের দিক থেকে একদল অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী হঠাৎ গুলি চালাতে শুরু করে। এই অতর্কিত হামলায় অন্তত ১৮ জন গ্রামবাসী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে যাতে সীমান্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যদিও প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় চিকিৎসার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের। বর্তমানে ওই চারজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন, তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল করতে লড়াই করছেন চিকিৎসকরা।
সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটি দীর্ঘকাল ধরেই দুই রাজ্যের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। জমির মালিকানা এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মাঝেমধ্যেই এখানে ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে এবারের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর, কারণ এতে সাধারণ গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং নতুন করে কোনো সংঘর্ষ রুখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। দুই রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মধ্যে কথা বলা হচ্ছে যাতে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা যায় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
সামগ্রিকভাবে, এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত আবারও প্রমাণ করল যে উত্তর-পূর্ব ভারতের এই সীমান্ত সমস্যাটি কতটা স্পর্শকাতর। সঠিক সীমানা নির্ধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধান না হলে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় সরকার এবং দুই রাজ্য সরকার এই সংকট কাটাতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।




