
মৃত্যুশয্যায় সোনম ওয়াংচুক: টানা ১৮ দিনের অনশনে অঙ্গ বিকল হওয়ার আশঙ্কা চিকিৎসকদের
টানা ১৮ দিনের অনশনের পর মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আছেন সমাজসেবী সোনম ওয়াংচুক। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, অঙ্গ বিকল হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে তাঁর।
দিল্লির যন্তর মন্তরেই এখন কার্যত মৃত্যুশয্যায় প্রখ্যাত জলবায়ু কর্মী এবং সমাজসেবী সোনম ওয়াংচুক। টানা ১৮ দিনের কঠোর অনশনের ফলে তাঁর শরীর এখন একেবারে ভেঙে পড়েছে, হাড় জিরজিরে হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্য ও জল বর্জনের ফলে তাঁর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো বিকল হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে তাঁকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।
নিট (NEET) সহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং লাদাখের বিশেষ সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতেই এই অনশনে বসেছিলেন ওয়াংচুক। তাঁর দাবি ছিল, শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষায় সরকারের বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই লড়াই এখন তাঁর স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, রক্তচাপের অস্বাভাবিক হ্রাস এবং শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের অভাবে তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে। বিশেষত কিডনি এবং লিভারের ওপর প্রবল চাপ পড়ছে। চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের এবং জরুরি চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
লাদাখের সাধারণ মানুষ এবং পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা মনে করছেন, সরকারের উদাসীনতাই একজন সমাজসেবীকে এই চরম পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াংচুকের এই লড়াই কেবল লাদাখের জন্য নয়, বরং গোটা দেশের শিক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতার এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে এখন একটাই প্রার্থনা, সোনম ওয়াংচুক দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। তবে তাঁর এই শারীরিক সংকট কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার যে, তাঁর এই জীবনপণ লড়াইয়ের পর সরকার তাঁর দাবিগুলোর কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে কি না।




