
হাইকোর্টের রায়ে হিন্দু বিবাহে ‘সপ্তপদী’ বাধ্যতামূলক, রেজিস্ট্রি করলেই বৈধ নয়
গুজরাট হাইকোর্টের রায়ে হিন্দু বিবাহের বৈধতার জন্য ‘সপ্তপদী’ রীতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; রেজিস্ট্রি করলেই বিবাহ স্বয়ং বৈধ নয়।
গুজরাটের উচ্চ আদালত আজ এক ঐতিহাসিক রায় দিয়ে হিন্দু বিবাহের বৈধতা সম্পর্কে স্পষ্ট দিশা দেখিয়েছে। রায় অনুসারে, শুধুমাত্র বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করলেই দম্পতি স্বয়ং বৈধ বিবাহের অধিকারী হয় না; হিন্দু ধর্মের ঐতিহ্যিক ‘সপ্তপদী’ রীতি পালন করা বাধ্যতামূলক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এই রীতি না মানলে হাইকোর্ট বিবাহকে ‘অবৈধ’ বলে গণ্য করবে এবং সংশ্লিষ্ট দম্পতির উপর আইনি প্রভাবও পড়বে।
বিবাহের রেজিস্ট্রেশনকে একমাত্র সুরক্ষা হিসেবে গণ্য করা হতো, তবে আদালত এ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ধর্মীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা চান। রায়ে বলা হয়েছে, ‘সপ্তপদী’ রীতি না মানলে দম্পতি হিন্দু সমাজের গঠনমূলক কাঠামোর বাইরে পড়বে এবং তা সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যাজনক।
এই রায়ের ফলে গুজরাটে হিন্দু বিবাহের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় নতুন ধাপ যোগ হবে; দম্পতি ও তাদের পরিবারকে ‘সপ্তপদী’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। আদালত এ বিষয়টি রক্ষণশীল ধর্মীয় সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করে তৈরি করেছে, যাতে হিন্দু ধর্মের ঐতিহ্য রক্ষা পায় এবং আইনি রূপরেখা সঠিক থাকে।
বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন, এই রায় হিন্দু বিবাহের ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসনকে পুনরুজ্জীবিত করবে এবং সমাজে ধর্মীয় রীতির প্রতি সম্মান বাড়াবে। তবে কিছু নাগরিক গোষ্ঠী রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার জটিলতা বাড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অবশেষে, হাইকোর্টের এই রায় গুজরাটের বাইরে অন্যান্য রাজ্যের হিন্দু বিবাহ নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ সারা দেশে ধর্মীয় রীতি ও আইনি বিধানের সমন্বয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।




