
মোদী সরকার ‘সুপার ব্লু’ ইথানল স্টোভ বাজারে আনবে, এলপিজি নির্ভরতা কমাবে
কেন্দ্রীয় সরকার ইথানল‑ভিত্তিক ‘সুপার ব্লু’ স্টোভ বাজারে আনছে, যাতে গৃহস্থালির এলপিজি নির্ভরতা কমে এবং রান্নাঘর সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হয়। প্রথম ত্রৈমাসিকে ৫ লক্ষ ইউনিট উৎপাদন পরিকল্পনা।
মন্তব্য‑সদৃশ শক্তিশালী লিড দিয়ে জানানো হয়েছে যে কেন্দ্রীয় সরকার ইথানল‑ভিত্তিক ‘সুপার ব্লু’ স্টোভের উৎপাদন শুরু করছে, যাতে গৃহস্থালির রান্নাঘরে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা কমে যায় এবং সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব বিকল্পের দরজা খোলে। দৈনিক ভাস্করের রিপোর্ট অনুসারে, এই উদ্যোগটি গৃহে জ্বালানির খরচ কমিয়ে গড় পরিবারের আর্থিক বোঝা হ্রাসের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে ‘সুপার ব্লু’ স্টোভের মূল প্রযুক্তি ইথানলকে প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে, ফলে কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। বর্তমানে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারকারী গৃহের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, আর ইথানল উৎপাদন দেশের কৃষি অবশিষ্টাংশ থেকে করা যায়, যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও সহায়তা করে। সরকার প্রাথমিকভাবে এই স্টোভের মূল্যায়ন করে ২০ শতাংশ ছাড় দিয়ে বাজারে ছাড়বে।
এই স্টোভের বিক্রয় এবং বিতরণ নিকটবর্তী এলপিজি ডিপো ও রিটেইল চেইনের মাধ্যমে হবে, ফলে গ্রাহকরা সহজেই কিনতে পারবে। উৎপাদন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ত্রৈমাসিকে ৫ লক্ষ ইউনিট উৎপাদন করে দেশব্যাপী সরবরাহ করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে উৎপাদন বাড়িয়ে ১০ লক্ষ ইউনিটের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। সরকার এছাড়া গৃহকর্তাদের জন্য ক্রেডিট সুবিধা এবং রিইঙ্জক্লোনমেন্ট স্কিম চালু করবে, যাতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সহজে এই স্টোভে রূপান্তরিত হতে পারে।
পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে, ইথানল স্টোভের ব্যবহার হাইড্রোকার্বন নির্গমন কমাবে এবং বায়ু দূষণ হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। বিশেষত শহুরে এলাকায় যেখানে বায়ু মানের অবনতি গুরুতর, সেখানে এই নতুন জ্বালানির জনপ্রিয়তা বাড়লে দূষণ কমে শহরের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে। তদুপরি, ইথানল উৎপাদন বাড়লে কৃষি উপজাতির আয় বাড়বে, যা দেশের কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সর্বশেষে বলা যায়, ‘সুপার ব্লু’ স্টোভের বাজারে প্রবেশ গৃহস্থালির জ্বালানি ব্যবহারে একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেয়, যা কেবল আর্থিক সাশ্রয়ই নয়, পরিবেশ রক্ষায়ও বড় ভূমিকা রাখবে। সরকার যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী এই প্রকল্পকে সমর্থন ও ত্বরান্বিত করে, তবে দেশের জ্বালানি নীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।




