যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬: ভারত-আমেরিকা মহড়ায় নজর এবার কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তিতে
international4 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬: ভারত-আমেরিকা মহড়ায় নজর এবার কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তিতে

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ভারত ও আমেরিকার যৌথ সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ শুরু হয়েছে। এবারের মূল ফোকাস অত্যাধুনিক কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে আকাশপথে শত্রুর আক্রমণ রুখে দেওয়ার কৌশল রপ্ত করবেন দুই দেশের সেনারা।

নয়াদিল্লিতে শুরু হয়ে গেল ভারত ও মার্কিন সেনাবাহিনীর বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের সামরিক অনুশীলনে দুই দেশের সেনারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রণকৌশল রপ্ত করছেন। তবে এবারের মহড়ার মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অত্যাধুনিক ‘কাউন্টার-ড্রোন’ প্রযুক্তি। বর্তমান সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং তার থেকে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই এই বিশেষ প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো প্রমাণ করেছে যে, ছোট ছোট ড্রোন কীভাবে বড় বড় সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে পারে। সেই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই ভারত ও আমেরিকা এবার যৌথভাবে ড্রোন প্রতিহত করার কৌশল নিয়ে কাজ করছে। এই মহড়ায় সিগন্যাল জ্যামিং, লেজার অস্ত্র এবং অ্যান্টি-ড্রোন মিসাইলের মতো উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে আকাশপথে শত্রুপক্ষের নজরদারি এবং আক্রমণ রুখে দেওয়া যায়।

কেবল প্রযুক্তি নয়, এই মহড়ার মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সমন্বয় আরও মজবুত হবে। দুর্গম ভূখণ্ডে কীভাবে দ্রুত সেনা মোতায়েন করা যায় এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কীভাবে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়, সেই বিষয়েও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দুই দেশের জওয়ানরা একে অপরের রণকৌশল এবং অস্ত্রশস্ত্রের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে যেকোনো যৌথ অভিযানে অত্যন্ত সহায়ক হবে।

ভারত ও আমেরিকার এই সামরিক ঘনিষ্ঠতা কেবল প্রতিরক্ষা খাতের উন্নয়ন নয়, বরং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আধুনিক যুদ্ধকৌশলে নিজেদের দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করাই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য।

সামগ্রিকভাবে, ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ কেবল একটি সাধারণ সামরিক মহড়া নয়, বরং এটি পরিবর্তিত যুদ্ধ পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার একটি প্রয়াস। কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তির এই সফল প্রয়োগ আগামী দিনে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX