ট্রাম্পের নতুন H-1B ভিসা নীতি: মার্কিন স্বপ্নে অনিশ্চয়তা, বিপাকে ভারতীয় পেশাজীবীরা
international3 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

ট্রাম্পের নতুন H-1B ভিসা নীতি: মার্কিন স্বপ্নে অনিশ্চয়তা, বিপাকে ভারতীয় পেশাজীবীরা

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন H-1B ভিসা নীতির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় আইটি পেশাজীবীদের খরচ ও ঝুঁকি উভয়ই বাড়ছে। কড়াকড়ি এবং অনিশ্চয়তার মুখে এখন তাঁদের মার্কিন স্বপ্ন।

হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর প্রশাসনের একের পর এক কঠোর নীতি পরিবর্তনের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজের স্বপ্ন দেখা ভারতীয় পেশাজীবীদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। বিশেষ করে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকায় আমূল বদলের ইঙ্গিত মিলছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের হাজার হাজার ভারতীয় কর্মীর ওপর। নতুন এই নিয়মে ভিসার খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি আবেদন প্রক্রিয়ার কড়াকড়ি আরও বাড়তে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির কথা বলে আসছে। সেই লক্ষ্যেই মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিদেশি কর্মীদের বদলে স্থানীয় আমেরিকানদের নিয়োগ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর ফলে এইচ-১বি ভিসার জন্য নির্ধারিত কোটার কড়াকড়ি বাড়তে পারে এবং বেতনসীমার নতুন মাপকাঠি চালু হতে পারে। এতে ছোট ও মাঝারি মাপের আইটি সংস্থাগুলোর জন্য ভারতীয় কর্মীদের স্পনসর করা আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে পড়বে।

শুধুমাত্র আর্থিক চাপ নয়, বরং আইনি অনিশ্চয়তাও এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিসা রিনিউয়াল বা নবীকরণের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার কারণে অনেক অভিজ্ঞ কর্মী এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকের আশঙ্কা, সামান্য ত্রুটির কারণে তাঁদের আবেদন বাতিল হতে পারে অথবা ভিসা প্রত্যাখ্যানের ফলে তাঁদের মাঝপথেই দেশে ফিরতে হতে পারে। এই পরিস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয়দের মানসিক চাপের পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি পরিবর্তনের ফলে ভারতের আইটি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক মডেলেও প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী পাঠানোর খরচ বাড়লে তা সামগ্রিক মুনাফায় প্রভাব ফেলবে। তবে অনেকে মনে করছেন, এই পরিস্থিতি ভারতীয়দের নিজেদের দেশে স্টার্ট-আপ এবং উদ্ভাবনের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করবে।

সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান মার্কিন শ্রমবাজারের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। একদিকে যেমন মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ বাড়ছে, অন্যদিকে ভারতীয় মেধাবীদের জন্য মার্কিন মুলুকে টিকে থাকা হয়ে উঠছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে ভারত সরকার এই বিষয়ে আমেরিকার সাথে কী ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা করে এবং কীভাবে ভারতীয় পেশাজীবীদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX