
আকাশপথে মার্কিন দাপটে ফাটল? দুর্ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে বিশ্বের সবচেয়ে জটিল যুদ্ধবিমান F-35B-র নিরাপত্তা নিয়ে
ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন F-35B যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার পর ফের আলোচনায় এল এর জটিল প্রযুক্তি। বহুমুখী ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যান্ত্রিক ত্রুটি ও নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর কাছে মার্কিন মেরিন কর্পসের একটি F-35B যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় ফের একবার চর্চায় উঠে এল বিশ্বের অন্যতম আধুনিক এই স্টেলথ ফাইটার। আকাশপথে মার্কিন আধিপত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই বিমানটির সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মনে গভীর সংশয় জাগিয়েছে। প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতা থাকা সত্ত্বেও কেন এই ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বারবার সামনে আসছে, তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
F-35B-কে বিশ্বের সবচেয়ে জটিল যুদ্ধবিমান বলা হয় কারণ এর নকশা এবং কার্যকারিতা সাধারণ ফাইটার জেটের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এই বিমানটি কেবল সুপারসনিক গতিতে উড়তে পারে না, বরং এটি 'ভার্টিকাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং' বা ভিটল (VTOL) প্রযুক্তিতে সক্ষম। অর্থাৎ, এটি হেলিকপ্টারের মতো খাড়াভাবে ওঠানামা করতে পারে এবং ছোট বিমানবাহী রণতরি থেকেও সহজেই উড্ডয়ন করতে পারে। এই বহুমুখী ক্ষমতার কারণেই একে অত্যন্ত জটিল এবং স্পর্শকাতর যন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।
তবে এই জটিলতাই যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বিমানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এই বিমানটি শত্রুপক্ষের রাডারে ধরা পড়ে না ঠিকই, কিন্তু এর অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার এবং যান্ত্রিক বিন্যাস এতটাই জটিল যে সামান্য ত্রুটিতেই বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই বিপুল চাপ সামলাতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই যান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যার ফলে সান দিয়েগোর মতো ঘটনা ঘটছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। যদিও দাবি করা হচ্ছে যে এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তবে সামরিক মহলের একাংশ মনে করছেন, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এবং এই বিমানের জটিল কার্যপদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন সেনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে যখন চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো দ্রুত তাদের বিমান প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাচ্ছে, তখন এই ধরনের ত্রুটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দাপটে কিছুটা ধাক্কা দিতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, F-35B যুদ্ধবিমানটি আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞাকে বদলে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের প্রশ্নে এটি এখনও পুরোপুরি উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে যদি যান্ত্রিক নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা না যায়, তবে এই কোটি কোটি ডলারের প্রকল্প শেষ পর্যন্ত প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়তে পারে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের পর মার্কিন প্রশাসন এই জটিল বিমানটির ত্রুটি দূর করতে কী পদক্ষেপ নেয়।




