
বাংলাদেশে ফের সাম্প্রদায়িক অশান্তির ছক! রথযাত্রার রাতে উদ্ধার টাইম বোমা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন পুণ্যার্থীরা
ঢাকার বাহুদা রথযাত্রার রাতে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে দুটি সক্রিয় টাইম বোমা উদ্ধার করল পুলিশ। বড়সড় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও প্রাণহানির ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে নিরাপত্তা বাহিনীর এই তৎপরতা।
প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে ফের সাম্প্রদায়িক হিংসা উসকে দেওয়ার এক বড়সড় ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হল। রাজধানী ঢাকার বাহুদা রথযাত্রার মিছিলে তাণ্ডব চালানোর পরিকল্পনা ছিল চরমপন্থীদের। তবে সময়মতো তৎপরতা দেখিয়ে পুলিশ বড়সড় বিপর্যয় রুখে দিল। শুক্রবার রাতে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে তল্লাশি চালিয়ে দুটি সক্রিয় টাইম বোমা উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। রথযাত্রার ভিড়কে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হতে পারত বলে প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রথযাত্রার মিছিলে যখন হাজার হাজার পুণ্যার্থী শামিল হয়েছিলেন, ঠিক সেই সময়েই এই বোমাগুলি সক্রিয় করার পরিকল্পনা ছিল হামলাকারীদের। মেট্রোরেল স্টেশনের মতো জনবহুল এলাকায় বোমা রাখার উদ্দেশ্য ছিল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে দেওয়া। সন্দেহভাজনদের গতিবিধির খবর পেয়েই দ্রুত তল্লাশি শুরু করে পুলিশ এবং উদ্ধার হয় ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি।
বোমা বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ে বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য সেটিং করা হয়েছিল। যদি সঠিক সময়ে এই বোমাগুলি উদ্ধার করা না যেত, তবে বড়সড় প্রাণহানি এবং বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা ছিল। বর্তমানে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর ক্রমাগত হামলা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রথযাত্রার মতো ধর্মীয় উৎসবকে লক্ষ্য করে এই ধরণের পরিকল্পনা প্রমাণ করে যে, সেখানে এখনও চরমপন্থী শক্তির প্রভাব রয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক এখনও কাটেনি।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে পুলিশি তৎপরতায় এবারের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও, ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।




