
জল আটকালে ‘হাত কেটে নেব’, পাকিস্তান মন্ত্রী দিলেন ভারতকে চরম হুঁশিয়ারি
পাকিস্তান মন্ত্রী হুমায়ূন গিলান ইন্ডাস জলচুক্তি লঙ্ঘন করলে “হাত কেটে নেব” বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে জলবণ্টন নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথে শান্তিপূর্ণ সংলাপের আহ্বান বেড়েছে।
পাকিস্তান মন্ত্রী হুমায়ূন গিলান ইন্ডাস জলচুক্তি লঙ্ঘন করলে “হাত কেটে নেব” বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ভারত‑পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা শীর্ষে পৌঁছে গেছে। এ হুঁশিয়ারির পটভূমি হল ২০২৫ সালের পহালগাঁও জঙ্গি হামলার পর দিল্লি সরকারের চুক্তি সংশোধনের সিদ্ধান্ত, যেটা পাকিস্তানের নীলনদে নতুন বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ইন্ডাস জলচুক্তি ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানকে গৃহীত হয়, যার মাধ্যমে গাঙ্গা, জামনা, সিন্দু নদীর জলের ভাগ ভাগাভাগি নির্ধারিত। প্রতি বছর পাকিস্তানকে ৯১৩ কিউবিক মিটার জল সরবরাহের বিধান থাকলেও, দু'দেশের মধ্যে ভাগের হিসাব ও সময়সীমা নিয়ে এখনো ঝগড়া চলছে।
পাকিস্তান গিলান মন্ত্রী বলছেন, যদি ভারত কোনোভাবে জলের প্রবাহ রোধ করে, তবে “হাত কেটে নেব” সহ শারীরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। তিনি এ কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে, যেখানে তিনি যুক্তি দেন যে জলধারা বাধা দিলে পাকিস্তানের কৃষি ও পানীয় জলের সরবরাহ বিপন্ন হবে।
ভারতীয় দপ্তর এ হুঁশিয়ারিকে “অসঙ্গত ও উস্কানিমূলক” বলে নিন্দা করে, পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি উভয় পক্ষই চুক্তির শর্ত মানে না, তবে হাইড্রো‑সিকিউরিটি সংকটের ঝুঁকি বাড়বে, যা দু’দেশের পাশাপাশি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
উপসংহারে বলা যায়, ইন্ডাস জলচুক্তি শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, সমগ্র অঞ্চলের শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই হিংসাত্মক হুঁশিয়ারির পরিবর্তে সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক সমঝোতা গড়ে তোলা দরকার, যাতে জলবণ্টন কাঠামো বজায় থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়ানো যায়।




