১৪,০০০ কিমি পাল্লা, ঘণ্টায় ৯০০ কিমি গতি! রাশিয়ার স্কাইফল পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি
international7 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

১৪,০০০ কিমি পাল্লা, ঘণ্টায় ৯০০ কিমি গতি! রাশিয়ার স্কাইফল পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

রাশিয়ার স্কাইফল পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ১৪,০০০ কিলোমিটার পাল্লা ও ঘণ্টায় ৯০০ কিলোমিটার গতি অর্জন করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। হাইপারসনিক গতি ও গোপনীয় চালনা সিস্টেমের কারণে এটি বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অতিক্রম করতে পারে।

রাশিয়ার গোপনীয় “স্কাইফল” (Skyfall) পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মঞ্চে নতুন উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। ৯এম১৭৯ বুরেভেস্টনিক (9M179 Burevestnik) নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ১৪,০০০ কিলোমিটার, যা মহাদেশীয় দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম, আর গতি ঘণ্টায় ৯০০ কিলোমিটার, ফলে তা দ্রুত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে স্কাইফলকে বিশ্বের প্রথম হাইপারসনিক পারমাণবিক অস্ত্র বলে দাবি করা হয়। হাইপারসনিক গতি ও উচ্চ পাল্লা একসঙ্গে মিলিয়ে এটি প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন বিমানবাহিনীর ইন্টারসেপশন সিস্টেম, অতিক্রম করতে পারে। তাছাড়া, এর চালু অবস্থায় জ্বালানি গোপনীয়তা রাশিয়ার স্বয়ংক্রিয় চালনা সিস্টেমের গোপনীয়তা বজায় রাখে, ফলে শত্রু দেশগুলোকে সঠিক সময়ে সতর্ক করা কঠিন হয়।

এই অস্ত্রের বাস্তবায়ন রাশিয়ার কৌশলগত স্বাধিকারকে শক্তিশালী করতে পারে, তবে এর ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোতে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো শীর্ষপদের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে এই বিষয়টি নিরাপত্তা কাউন্সিলের আলোচনার শীর্ষে রাখার কথা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, ইউরোপীয় দেশগুলোও নিজেদের বায়ু ও মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বাড়াতে পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কাইফল পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার সীমা না থাকলে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই দৌড়ে না গিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা ও পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলা জরুরি। অতএব, বিশ্ব সম্প্রদায়কে একসাথে কাজ করে এই ধরনের হাইপারসনিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে কঠোর চুক্তি তৈরি করতে হবে।

উপসংহারে বলা যায়, স্কাইফল পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক স্তরে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও প্রযুক্তিগত প্রতিক্রিয়া ছাড়া এই হাইপারসনিক হুমকিকে মোকাবেলা করা কঠিন হবে। তাই নিরাপত্তা সংস্থা, সরকার ও গবেষণা সংস্থার সমন্বয়ই একমাত্র কার্যকর সমাধান হতে পারে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX