
এথার মাইন্ড টেকনোলজিসের ‘ভেন্টআউট’— রোলপ্লে ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যের প্রথম প্ল্যাটফর্ম চালু
এথার মাইন্ড টেকনোলজিসের ‘ভেন্টআউট’ রোলপ্লে ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যের প্রথম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে হায়দ্রাবাদে চালু হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের নিরাপদে অনুভূতি শেয়ার করার নতুন সুযোগ দিচ্ছে।
হায়দ্রাবাদের সাইবার টেক পার্কে আগস্ট ২০২৬-এ এথার মাইন্ড টেকনোলজিস নতুন মানসিক স্বাস্থ্যের প্ল্যাটফর্ম ‘ভেন্টআউট’ উন্মোচন করেছে। এই সেবার বিশেষত্ব হল রোলপ্লে ভিত্তিক পদ্ধতি, যেখানে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ঢেলে মানসিক চাপ প্রকাশ করতে পারে এবং সমানমনা মানুষের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে শিথিল হয়। প্ল্যাটফর্মটি এআই চালিত চ্যাটবট ও নিরাপদ গোপনীয়তা নীতিতে গড়ে তোলা, ফলে ব্যবহারকারীরা উদ্বেগ, দুঃখ বা রাগের মতো অনুভূতি স্বচ্ছন্দে ভাগ করতে পারে।
‘ভেন্টআউট’ শুধুমাত্র কথোপকথন নয়, বরং গেমিফিকেশন উপাদান যুক্ত করে ব্যবহারকারীর অংশগ্রহণ বাড়িয়ে দেয়। ব্যবহারকারী নিজের গল্পের নায়ক হয়ে বিভিন্ন দৃশ্যপটে নিজেকে প্রকাশ করতে পারে, যা মনস্তাত্ত্বিক থেরাপির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোলপ্লে পদ্ধতি বাস্তব জীবনের সমস্যাকে নিরাপদ পরিবেশে প্রকাশ করার সুযোগ দেয়, ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এই উদ্যোগের পেছনে এথার মাইন্ডের সিইও রাহুল শেঠি উল্লেখ করেছেন, "ভারতীয় যুব সমাজে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বাড়ছে, তবে পেশাদার সাহায্য পাওয়া কঠিন। ‘ভেন্টআউট’ এই গ্যাপ পূরণ করবে এবং ব্যবহারকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।" এছাড়া, প্ল্যাটফর্মটি হায়দ্রাবাদ ছাড়াও কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইতে পরীক্ষামূলক রোলআউট শুরু করার পরিকল্পনা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোলপ্লে-ভিত্তিক পদ্ধতি মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার মিশ্রণ ঘটাচ্ছে। যদি সফল হয়, তবে এটি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্যের সেবা বাজারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। এদিকে, ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ ও গোপনীয়তা বজায় রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে তারা নির্ভয়ে তাদের অনুভূতি শেয়ার করতে পারে।
সর্বশেষে, ‘ভেন্টআউট’ মানসিক স্বাস্থ্যের সেবা প্রদানে প্রযুক্তি সংস্থার নতুন দৃষ্টিকোণ তুলে ধরেছে। রোলপ্লে মাধ্যমে আত্ম-প্রকাশের সুযোগ দিয়ে এটি ব্যবহারকারীর মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সেবা প্রদান করতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগই আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি ইতিবাচক পরিবর্তন আনার মূল চাবিকাঠি।




