
খাবারের ভুয়ো দাবিতে সেলিব্রিটি‑ইনফ্লুয়েন্সারদের ওপর FSSAI কঠোর নোটিস
FSSAI সেলিব্রিটি ও ইনফ্লুয়েন্সারদের ওপর খাবার‑পানীয়ের ভুয়ো দাবির জন্য কঠোর নোটিস জারি করেছে। বিজ্ঞাপন দায়িত্ব পালনের জন্য এখন থেকে অনুমোদিত লেবেলিং মান মেনে চলতে হবে।
নয়াদিল্লিতে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি (FSSAI) আজ এক চূড়ান্ত নোটিস জারি করেছে। খাবার ও পানীয়ের পণ্য প্রচারে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর দাবি করা সেলিব্রিটি ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গুঁড়ো পাউরুটি, ডায়েট ড্রিংক বা হেলথি স্ন্যাক্সের ‘১০০% প্রাকৃতিক’ বা ‘ক্যালোরি শূন্য’ বলা দাবি যদি বৈধ প্রমাণের সঙ্গে সমর্থিত না হয়, তবে তা আইনি শাস্তির আওতায় পড়বে।
FSSAI’র প্রেসিডেন্ট ডঃ রমেশ ঘোষের মতে, সামাজিক মাধ্যমে বড়ো ফলোয়ার সংখ্যা থাকলেও বিজ্ঞাপনদাতা ও প্রোডাক্টের মান নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদের প্রথম দায়িত্ব, আর তাই ভুয়া দাবি প্রচারকারী কেউই অবহেলিত হতে পারে না।” এই নোটিসে উল্লিখিত ৫০টি প্রোফাইলের মধ্যে বেশ কিছু নাম ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, যা মিডিয়া ও জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ফুড ইনফ্লুয়েন্সারদের বিজ্ঞাপন পদ্ধতি যদি স্বচ্ছ না হয়, তবে গ্রাহকরা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কেনাকাটা করে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই, প্রোডাক্টের উপাদান, পুষ্টিমান ও প্রভাব সম্পর্কে যথাযথ তথ্য প্রদান করা অপরিহার্য।
এই নোটিসের ফলে ইনফ্লুয়েন্সাররা এখন থেকে বিজ্ঞাপন পোস্ট করার আগে FSSAI‑এর অনুমোদিত লেবেলিং নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য হবে। লঙ্ঘন করলে শাস্তি হিসেবে জরিমানা বা পণ্য বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
উপসংহারে বলা যায়, ভোক্তা সংরক্ষণের জন্য এই কঠোর পদক্ষেপটি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনকারী যেকোনো ব্যক্তিরই নৈতিক দায়িত্ব আছে, তা যেন সঠিক তথ্য দিয়ে জনস্বাস্থ্যের রক্ষা করে। এ ধরণের ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল বিজ্ঞাপন সংস্কৃতির ভিত্তি গড়ে তুলবে।




