ঘুম ভাঙতেই ফোন স্ক্রোল—মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বাড়ার ঝুঁকি
স্বাস্থ্য19 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

ঘুম ভাঙতেই ফোন স্ক্রোল—মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বাড়ার ঝুঁকি

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ঘুমের সঙ্গে সঙ্গে ফোন স্ক্রোল করা মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বাড়াতে পারে। গবেষণা ও বিশেষজ্ঞের মতামত অনুযায়ী, ডিজিটাল ডিটক্সের মাধ্যমে স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব।

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে প্রথম কাজটি যদি স্মার্টফোনের স্ক্রিন হয়, তবে তা আর কল্পনা নয়; এটি এখন অনেকের রুটিনের অংশ। অরিত্রী চন্দ, কলকাতা—এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন, যেখানে লক্ষ্য করা গেছে যে চোখ খোলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টিকটক মতো প্ল্যাটফর্মে অশ্রান্তি স্ক্রোলিং শুরু হয়। গবেষণায় দেখা যায়, এই 'ডিজিটাল ডিটক্স' না করা অভ্যাস ঘুমের মান কমিয়ে দেয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানসিক চাপের সীমানা বাড়ায়।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সাইকোলজি (IIS) কর্তৃক প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতিদিন এক ঘণ্টারও বেশি স্ক্রিন টাইমের লোকদের মধ্যে স্ট্রেস, উদ্বেগ এবং শারীরিক ক্লান্তি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে, ঘুমের পরপরই নোটিফিকেশন পেলে মস্তিষ্কের 'ব্রেক' পায় না, ফলে কোর্নিয়া (cortisol) হরমোনের স্তর শিগগিরই বাড়ে। এই হরমোনের অতিরিক্ত উৎপাদন ঘুমের চক্রকে বিঘ্নিত করে, ফলে দিনভর অশ্রান্তি ও মনোযোগের অভাব দেখা দেয়।

মনোবিজ্ঞানী ডঃ রমেশ চ্যাটার্জি জানান, "স্মার্টফোনের চরম ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক, বিশেষ করে যখন এটা ঘুমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে।" তিনি পরামর্শ দেন, ঘুমের পর কমপক্ষে ৩০ মিনিটের জন্য ফোন বন্ধ রাখুন, নোটিফিকেশন সাইলেন্স করুন এবং প্রয়োজনীয় কাজের জন্যই ডিভাইস ব্যবহার করুন। এছাড়াও, রোজে কমপক্ষে এক ঘন্টা শারীরিক ব্যায়াম বা ধ্যান করা মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।

কলকাতার বেশ কিছু কলেজ ও কর্পোরেট অফিসে এখন 'ডিজিটাল ডিটক্স' কর্মশালা চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল কর্মচারী ও ছাত্রদের স্বয়ংক্রিয় স্ক্রোলিংয়ের বদলে সক্রিয়ভাবে বই পড়া, সঙ্গীত শোনা অথবা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো। প্রথম সপ্তাহে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭০ শতাংশই মানসিক চাপ কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে ছোটো পরিবর্তনই বড়ো স্বাস্থ্যের ফল দেয়।

সুতরাং, ঘুম ভাঙতেই ফোন হাতে নেওয়া যদি আপনার দৈনন্দিন রুটিন হয়ে থাকে, তবে তা তৎক্ষণাৎ পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। স্ক্রিনের আলোকে সীমিত করে, শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামের জন্য সময় বরাদ্দ করলে স্ট্রেসের মাত্রা কমবে, ঘুমের গুণমান উন্নত হবে এবং দিনটি আরও উৎপাদনশীলভাবে কাটবে। এই পরিবর্তনটি শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্য নয়, সমগ্র সমাজের মঙ্গলার্থেও অপরিহার্য।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX