
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে হাওড়ার বিশেষ উদ্যোগ, গণযোগাভ্যাসে অংশ নিলেন ৫০০ জন
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে হাওড়ার এলআরএস স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে এক বিশেষ গণযোগাভ্যাসের আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৫০০ জন মানুষ।
স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের উদযাপনে মাতল হাওড়া। রবিবার শহরের এলআরএস স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য কর্মসূচিতে যোগ দিলেন প্রায় ৫০০ জন মানুষ। ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই বিশেষ উদ্যোগে অংশগ্রহণকারীদের ভিড় দেখে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেও যোগচর্চার প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের নির্দেশনায় বিভিন্ন ধরণের আসন ও প্রাণায়াম অভ্যাস করেন উপস্থিত সকলে। সূর্য নমস্কার থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপশমকারী আসন— সব মিলিয়ে গোটা পরিবেশ হয়ে উঠেছিল শান্ত ও ইতিবাচক। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শিশু থেকে বৃদ্ধ, সকলেরই উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ব্যস্ত নাগরিক জীবনে মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম যে কতটা কার্যকর, সেই বার্তাই দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এই কর্মসূচির মাধ্যমে।
আয়োজকদের মতে, বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে শারীরিক সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে যোগচর্চাকে কেবল একটি ব্যায়াম হিসেবে না দেখে, জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, নিয়মিত যোগচর্চা করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা সহজ হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের সাথে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে যোগব্যায়ামের সঠিক নিয়ম এবং এর উপকারিতা নিয়ে আলোকপাত করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা জানান, এই ধরণের গণযোগাভ্যাসের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং সমাজিক সংহতি দৃঢ় হয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই কর্মসূচির সাফল্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, হাওড়ার এই উদ্যোগটি শহরের বাসিন্দাদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। শরীর ও মনের সুস্থতা বজায় রাখতে যোগচর্চার কোনো বিকল্প নেই— এই মন্ত্রকেই সামনে রেখে আগামী দিনে আরও অনেক ছোট ছোট শিবিরে এই সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সুস্থ সমাজ গড়তে এই ধরণের উদ্যোগ আগামী দিনে আরও অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।




