দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোবাইল নিষিদ্ধ হতে পারে রাজ্যে? শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে বড় ইঙ্গিত শুভেন্দুর
education20 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোবাইল নিষিদ্ধ হতে পারে রাজ্যে? শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে বড় ইঙ্গিত শুভেন্দুর

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

পড়ুয়াদের স্মার্টফোন আসক্তি রুখতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোবাইল নিষিদ্ধ করার ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শিক্ষা মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও জল্পনা।

রাত দেড়টা-দু’টোর আগে ঘুমোচ্ছে না আজকের প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। বাবা-মায়ের চোখের আড়ালে স্মার্টফোনের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকছে পড়ুয়ারা। পড়ুয়াদের এই মারাত্মক আসক্তি রুখতে এবার কি গুজরাটের মডেলে পশ্চিমবঙ্গেও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ হতে চলেছে? শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকেই এই জল্পনা উসকে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই শিক্ষা মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

শুভেন্দু অধিকারীর মতে, বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন শিশুদের পড়াশোনা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, স্মার্টফোনের অত্যধিক ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগের ক্ষমতা কমছে এবং তারা ক্রমশ একাকী হয়ে পড়ছে। অভিভাবকরা অনেক সময় সন্তানদের এই আসক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না, যার ফলে পড়াশোনার মান আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে ইতিমধ্যেই স্কুল প্রাঙ্গণে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গুজরাটের মতো কিছু রাজ্যে এই নিয়ম অত্যন্ত কঠোরভাবে পালন করা হয়। শুভেন্দুর এই ইঙ্গিত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাজ্য সরকার পরিবর্তন হলে অথবা শিক্ষার নীতিতে বড়সড় বদল এলে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর আইন আনা হতে পারে। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে অভিভাবকদের একাংশ যেমন স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, তেমনই অনেকের মতে প্রযুক্তির যুগে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবসম্মত নয়।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং আধুনিক শিক্ষার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে এর অপব্যবহার যে শিশুদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার চেয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং অভিভাবকদের নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে সঠিক পথ। এখন দেখার যে, রাজনৈতিক স্তরে শুরু হওয়া এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো বাস্তব রূপ পায় কি না।

সামগ্রিকভাবে, ডিজিটাল যুগের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সুপরিকল্পিত কাঠামোর প্রয়োজন। স্মার্টফোনের আসক্তি দূর করে শিক্ষার্থীদের পুনরায় বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক বয়ান নাকি ভবিষ্যতের কোনো বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত, তা সময়ই বলবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX