বেদ‑গীতা ও যোগ‑শিক্ষা ধর্মীয় নয় – মাদ্রাস হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
education1 দিন আগে১ মিনিট পড়ুন

বেদ‑গীতা ও যোগ‑শিক্ষা ধর্মীয় নয় – মাদ্রাস হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

মাদ্রাস হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে ভগবদ্গীতা, বেদান্ত ও যোগকে ধর্মীয় কার্যকলাপের বাইরে রেখে, শিক্ষায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি জোরদার করা হয়েছে।

মাদ্রাস হাইকোর্ট আজ এক বিশাল নির্দেশে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভগবদ্গীতা, বেদান্ত এবং যোগ‑শিক্ষা কোনো ধর্মীয় কার্যকলাপের অংশ হিসেবে গণ্য হবে না। আদালত বলেছে, এ সব গ্রন্থ ও অনুশীলন মানবিক সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও শারীরিক‑মানসিক উন্নয়নের স্তম্ভ, যা ধর্ম‑নিরপেক্ষভাবে শেখা‑দেওয়া যেতে পারে।

এই রায়ের পটভূমিতে চলমান বিতাদ‑বিতর্কের মূলে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় গঠনবদ্ধতা হ্রাসের দাবি। বহু শৈক্ষিক প্রতিষ্ঠান ও অ‑সরকারি সংস্থা ইতিমধ্যে বেদ‑গীতা পাঠ ও যোগ‑ক্লাসকে পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তবে ধর্মীয় গোষ্ঠীর ভীতি ও আইনি জটিলতার কারণে তাদের অবস্থান অনিশ্চিত ছিল।

কোর্টের রায়ের ফলে এই বাধা দূর হবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী। তারা উল্লেখ করছেন, এখন বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধর্মীয় ঘাঁটিতে না গিয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়গুলোকে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করতে পারবে। ফলে শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে বৈজ্ঞানিক এবং নৈতিক আলোকে বুঝতে পারবে।

অধিকন্তু, রায়টি সংবিধানের ধারা ১৯ ও ২১‑এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে। সরকার এখন দ্রুত কর্মপথে নামবে, যাতে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পরিবর্তন কার্যকর করা যায়।

উপসংহারে বলা যায়, মাদ্রাস হাইকোর্টের এই রায় কেবল আইনি দিক থেকে নয়, সমাজের দৃষ্টিকোণ থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ধর্মীয়‑সাংস্কৃতিক জ্ঞানকে শিক্ষার অংশ করে গৃহীত হলে, আমাদের জাতির বৌদ্ধিক ও নৈতিক ভিত্তি আরও দৃঢ় হবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX