
বেঙ্গালুরুতে মাদক পাচারের জাল ছিন্ন করল পুলিশ, গ্রেফতার ৮ বিদেশি সহ মোট ৩৯ জন
বেঙ্গালুরুতে পুলিশের বড়সড় মাদক অভিযানে ৮ জন বিদেশি নাগরিক সহ মোট ৩৯ জন গ্রেফতার হয়েছেন। বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করে আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের শেকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা করছে পুলিশ।
দক্ষিণ ভারতের আইটি হাব বেঙ্গালুরুতে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে এক বিশালসcale অভিযান চালিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল স্থানীয় পুলিশ। সোমবার পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পরিকল্পিতভাবে চালানো এই অভিযানে মোট ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চক্রের জাল কতটা গভীরে ছড়িয়েছিল, তার প্রমাণ মেলে গ্রেফতারি তালিকায়। ধরা পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৮ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যারা আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিনের গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। মাদক পাচারের এই চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে শহরের অভিজাত এলাকা এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে কাজ করছিল। তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য কোটি কোটি টাকা বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকগুলি কীভাবে শহরে প্রবেশ করল এবং এর চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, বিদেশি নাগরিকরা মূলত এই চক্রের মূল যোগসূত্র হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে উচ্চমানের মাদক ভারতে পাচার করছিলেন। গ্রেফতার হওয়া বাকি ৩১ জন ভারতীয় নাগরিক এই পাচারের স্থানীয় নেটওয়ার্ক সামলাতেন। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এই চক্রের সঙ্গে শহরের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বা বড় কোনো অপরাধী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না।
বর্তমানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাঁদের ডিজিটাল ডিভাইসগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ আশা করছে, ফোন এবং ল্যাপটপের তথ্য বিশ্লেষণ করলে আরও অনেক বড় বড় নাম সামনে আসবে। মাদকবিরোধী এই লড়াইয়ে বেঙ্গালুরু পুলিশ যে আপসহীন, এই অভিযান তারই প্রমাণ। বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব রুখতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সামগ্রিকভাবে, এই অভিযানটি মাদক পাচারকারীদের মনে ভয়ের সঞ্চার করবে এবং শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিদেশি নাগরিকদের গ্রেফতারি প্রমাণ করে যে, মাদক পাচারের জাল এখন আর শুধু দেশীয় সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, তা আন্তর্জাতিক রূপ নিয়েছে। আগামী দিনে আরও কঠোর নজরদারি এবং সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমেই কেবল এই মরণনেশার জাল পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব।




