
‘জিরো টলারেন্স’ নীতি: কয়লা পাচারে লাগাম, অভিযানে উদ্ধার টন টন ‘কালো সোনা’
সরকার ‘জিরো কোল লিকেজ’ নীতি চালু করে অবৈধ কয়লা পাচারে কঠোর লেগেছে। সাম্প্রতিক অভিযানে ২০ টন কালো সোনা জব্দ করা হয়েছে, যা রাজ্যের আর্থিক ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যের জন্য গুরত্বপূর্ণ।
রাজ্য সরকার বদলের পর থেকে অবৈধ কয়লা খনি ও পাচারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর ‘জিরো কোল লিকেজ’ নীতি চালু করা হয়েছে। গত সপ্তাহে হুগলি ও বর্ধমান জেলার সীমান্তে পরিচালিত এক অভিযানে, গোপন গলিতে লুকিয়ে থাকা ২০ টন অ-নিয়ন্ত্রিত কয়লা তাড়া করে জব্দ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পেছনে সরকারের লক্ষ্য হল, তেল‑গ্যাসের বদলে কয়লার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাস করা।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী কেন্দ্রীয় অ্যান্টি‑মাইনিং টাস্ক ফোর্সের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ খনি থেকে সরবরাহ হওয়া কয়লা সরাসরি শিল্পখাতে প্রবেশ না করে গৃহস্থালি ও গৃহবাহ্যিক চাহিদা পূরণে ব্যবহার হয়, যা রাজ্যের রাজস্বের ক্ষতি করে। তাই তারা জোর দিয়ে বলেছে, একবার ধরা পড়লে অপরাধীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে, আর জব্দকৃত কয়লা সরকারী গুদামে সংরক্ষণ করা হবে।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ভবিষ্যতে বৈধ খনি শিল্পের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সন্নিবেশিত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে, এই নীতি পরিবেশ রক্ষায়ও বড় অবদান রাখবে, কারণ অবৈধ খনির ফলে হ্রদ ও নদীর জলমান নষ্ট হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে, তবে কিছু গোষ্ঠী দাবি করছে, নীতি বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের অধিকার ও জীবিকা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাই সরকারকে উচিত, কঠোরতা ও সমানুভূতির সমন্বয় রেখে, বৈধ খনি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমন্বিত পরিকল্পনা গড়ে তোলা।
অবশেষে বলা যায়, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি শুধুমাত্র কোয়ল লিকেজ নয়, বরং রাজ্যের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যের রক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। যথাযথ তদারকি ও জনসচেতনতায় যদি সমর্থন মিলিয়ে না নেওয়া হয়, তবে এই নীতি সাফল্য অর্জন করতে পারবে না।




