বিদেশি লেনদেনে বড়সড় অনিয়ম! আয়করের নজরে ৩৯৪ সংস্থা ও ৩৬ পেশাদার
business4 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

বিদেশি লেনদেনে বড়সড় অনিয়ম! আয়করের নজরে ৩৯৪ সংস্থা ও ৩৬ পেশাদার

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

বিদেশি অর্থপ্রেরণে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগে ৩৯৪টি সংস্থা এবং ৩৬ জন পেশাদারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে আয়কর দফতর। কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের সন্দেহ করে তাদের লেনদেনের খতিয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিদেশি অর্থপ্রেরণে বড়সড় কারচুপির অভিযোগে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল আয়কর দফতর। সন্দেহজনক লেনদেনের পাহাড় জমেছে ৩৯৪টি বেসরকারি সংস্থা এবং ৩৬ জন পেশাদারের অ্যাকাউন্টে। মুম্বই সূত্রে খবর, দীর্ঘ সময় ধরে এই লেনদেনগুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। এবার সেই তথ্যের ভিত্তিতেই শুরু হয়েছে বিস্তারিত যাচাই প্রক্রিয়া। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে, এই অর্থপ্রেরণের আড়ালে কর ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি বড়সড় আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে।

আয়কর দফতরের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে এই সংস্থা এবং পেশাদাররা বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশ পাঠিয়েছেন, যার উৎস বা উদ্দেশ্য যথাযথভাবে খোলসা করা হয়নি। বিশেষ করে 'রেমিট্যান্স' বা বিদেশি অর্থপ্রেরণের নিয়মাবলি লঙ্ঘন করে এই কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ব্যবসার আড়ালে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা বেনামী পথে টাকা সরানো হয়েছে, যা দেশের আর্থিক নিয়মের পরিপন্থী।

এই তালিকায় থাকা ৩৬ জন পেশাদারের মধ্যে উচ্চপদস্থ কনসালট্যান্ট এবং আর্থিক উপদেষ্টারা রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাদের মাধ্যমে কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আয়কর আধিকারিকদের ধারণা, অনেক ক্ষেত্রে ভুয়ো ইনভয়েস বা জাল নথিপত্র তৈরি করে এই লেনদেন চালানো হয়েছে। এই চক্রের সাথে আর কেউ যুক্ত কি না, তা জানতে প্রতিটি ট্রানজ্যাকশনের খুঁটিনাটি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বর্তমানে এই সমস্ত সংস্থা এবং ব্যক্তিদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আয়কর দফতর স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যদি যথাযথ প্রমাণ দেওয়া না যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিপুল পরিমাণ জরিমানা চাপানো হতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে কর ফাঁকি দেওয়া বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ডিজিটাল লেনদেনের যুগে অর্থ পাচার এবং কর ফাঁকি রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারের এই কড়াকড়ি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্বচ্ছ আর্থিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং কালো টাকা রুখতে আয়কর দফতরের এই ধরণের অভিযান আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX