বিদায় নিচ্ছে প্রাক্তন শিল্ডজয়ীরা! ৫৫ লক্ষ টাকার অভাবে আইএসএল জামশেদপুর ছেড়ে যেতে পারে
business5 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

বিদায় নিচ্ছে প্রাক্তন শিল্ডজয়ীরা! ৫৫ লক্ষ টাকার অভাবে আইএসএল জামশেদপুর ছেড়ে যেতে পারে

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

শিল্ডজয়ী গোষ্ঠী জামশেদপুরে মাত্র ৫৫ লক্ষ টাকার ঘাটতির কারণে কার্যক্রম বন্ধের হুমকিতে। তহবিলের ঘাটতি পূরণে সরকারী দফতরের সঙ্গে আলোচনার দরকার।

মেগা চুক্তির কর্পোরেট জাঁকজমক আর কোটি কোটি টাকার রমরমা শোনা যায় সকল হেডলাইন পৃষ্ঠায়, তবুও একদিকে আরেকদিকে শিল্ডজয়ীর পুরনো গাঁথা ধুলোয় মিশে যাওয়ার হুমকি তীব্র। আইএসএল (ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাপ্লাই লিমিটেড) জামশেদপুরের শিল্ডজয়ী গোষ্ঠী, যাঁরা বহু বছর ধরা গিয়েছে রেলওয়ে, গৃহোন্নয়ন ও সেতু নির্মাণের বড় বড় প্রকল্পে, তাদের এখন মাত্র ৫৫ লক্ষ টাকার তহবিলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এই ফাঁক পূরণ না হলে, গোষ্ঠীটি তার কার্যক্রম বন্ধ করে, কর্মচারী ও ঠিকাদারদের সঙ্গে বিদায় নেবে বলে জানিয়েছে।

শিল্ডজয়ীরা, যাঁদের কাজের গুণগত মান ও সময়মতো সম্পাদনের জন্য সরকারী বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থা দুটোই ভরসা করে, গত বছরই ১.৩ কোটি টাকার চুক্তি পেয়েছিল। তবে প্রকল্পের বর্ধিত সময়সীমা, মজুদ মূল্যের বৃদ্ধি ও অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতের কারণে খরচ অতিরিক্ত বেড়ে, তহবিলের ঘাটতি বাড়ে। তাছাড়া, হস্তান্তরযোগ্য সম্পদ বিক্রির দেরি এবং বকেয়া পেমেন্টের পরিমাণে হ্রাসও এই আর্থিক সংকটে বড় ভূমিকা রেখেছে।

আইএসএল জামশেদপুরের ব্যবস্থাপনা বলেছে, তহবিলের ঘাটতি পূরণে তারা সরাসরি সরকারী দফতরের সঙ্গে আলোচনায় আছে। তবে, যদি দ্রুত কোনো সমাধান না হয়, তবে শিল্ডজয়ী গোষ্ঠীর সদস্যদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে, যা স্থানীয় শ্রমিক বাজারে বড় ধাক্কা দিতে পারে। সম্প্রতি, গোষ্ঠীর কর্মীদের পরিবারে উদ্বেগের ঢেউ দেখা দিচ্ছে, কারণ অনেকেই দৈনন্দিন জীবনের খরচ মেটাতে কঠিন অবস্থায় আছে।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, শিল্ডজয়ী গোষ্ঠীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের আর্থিক অস্থিরতা শুধু একক প্রতিষ্ঠানেই নয়, পুরো শিল্পের গতি ও দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও সুষ্ঠু পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সরকার যদি এই সমস্যার সমাধানে সক্রিয় পদক্ষেপ নেয়, তবে শিল্ডজয়ীদের পুনরুজ্জীবন সম্ভব এবং প্রকল্পগুলোও সময়মতো সম্পন্ন হবে।

উপসংহারে, শিল্ডজয়ী গোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা ছাড়া বিদায় নিতে বাধ্য করা মানে শুধু কর্মীর ভবিষ্যৎ নয়, বরং শহরের অবকাঠামো কাজের ধারাবাহিকতা ও গুণগত মানের ক্ষতি ঘটানো। তাই, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে দ্রুত সমাধান খোঁজা এবং তহবিলের ঘাটতি পূরণই এখনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX