
পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের তাপ দিয়ে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন—ভারত গড়ল নতুন ইতিহাস
বিজ্ঞানীরা ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরের তাপ ব্যবহার করে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন করে ভারতের জ্বালানি রূপান্তরে নতুন মাইলফলক চিহ্নিত করেছেন। এই উদ্যোগ দেশের পরিচ্ছন্ন শক্তি নীতিকে শক্তিশালী করবে।
এই সপ্তাহে ভারতের বিজ্ঞানী দল প্রথমবারের মতো ফাস্ট ব্রিডার নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের তাপ ব্যবহার করে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন করে দেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অগ্রগামী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। রিঅ্যাক্টরের উচ্চ তাপমাত্রা থেকে প্রাপ্ত তাপের সাহায্যে ইলেক্ট্রোলিসিস প্রক্রিয়ায় জলকে বিভাজন করে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন আলাদা করা হয়েছে; এতে উৎপাদিত হাইড্রোজেন সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন এবং কোনো কার্বন নির্গমন হয় না।
প্রকল্পটি কলকাতা নিকটবর্তী কোলকাতা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (K.N.I.T) এবং ভারতীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (ডিএইচও) এর যৌথ উদ্যোগে চালু হয়। সংস্থার বিজ্ঞানী ডঃ অমিত শর্মা বলেন, “ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরের তাপ শক্তি ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়, আর এখন আমরা সেটাকে হাইড্রোজেন উৎপাদনে ব্যবহার করে জ্বালানি মিশ্রণকে আরও স্বচ্ছ করে তুলছি।”
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সবুজ হাইড্রোজেনের উৎপাদন দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াবে, তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করবে। এধরনের প্রযুক্তি যদি বড় পরিসরে প্রয়োগ করা যায়, তবে ভারতীয় শিল্পখাতে হাইড্রোজেন-চালিত যন্ত্রপাতি ও যানবাহনের জন্য স্বল্পমূল্যের জ্বালানি সরবরাহ সম্ভব হবে।
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এই উদ্যোগকে ‘হাইড্রোজেন ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে, নীতি সমর্থন ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও দুটি ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরে একই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে দেশের হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষমতা দশ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
উপসংহারে বলা যায়, পারমাণবিক তাপ ব্যবহার করে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের এই সফল পরীক্ষা শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক অর্জন নয়, বরং দেশের জ্বালানি রূপান্তরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এ ধরনের উদ্ভাবনী প্রকল্পই ভারতকে বিশ্ব শক্তি মানচিত্রে টেকসই ও পরিচ্ছন্ন শক্তির নেতা হিসেবে গড়ে তুলবে।




